কুরআন থেকে পাঁচ ওয়াক্ত ছলাত
কুরআন থেকে পাঁচ ওয়াক্ত ছলাত
আয়াত, অর্থ ও সময়ের পূর্ণাঙ্গ দলীলভিত্তিক ব্যাখ্যা
ইসলামের মূল স্তম্ভ সালাত বা নামাজ। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তাআলা নামাজের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। নিচে কুরআনের সেই অকাট্য আয়াতগুলো এবং ৫ ওয়াক্ত সালাতের সময়ের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো:
প্রধান দলীল: ১৭:৭৮
أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَىٰ غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ ۖ
অর্থ: "সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করুন এবং ফজরের কুরআন পাঠ (সালাত) ও।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ৭৮)
তাফসীর: এই আয়াতে ৫টি ওয়াক্ত সুনিহিত।
- দুলূকুশ শামস: সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়া—যা থেকে যুহর ও আসর শুরু হয়।
- গাসাকিল লাইল: রাতের অন্ধকার—যা মাগরিব ও এশা নামাজকে নির্দেশ করে।
- কুরআনাল ফাজর: সরাসরি ফজর সালাত।
সময় বিভাজন: ৩০:১৭-১৮
فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ
অর্থ: "অতএব আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং সকালে। আর আসমান ও যমীনে সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই; আর দিনের শেষভাগে এবং যখন তোমরা দুপুরে উপনীত হও।" (সূরা রূম: ১৭-১৮)
এখানে সরাসরি চারটি সময়ের মাধ্যমে ৫টি ওয়াক্তকে পাওয়া যায়:
১. সন্ধ্যায়: মাগরিব ও এশা। ২. সকালে: ফজর। ৩. দিনের শেষভাগ: আসর। ৪. দুপুরে: যুহর।
প্রান্তসীমা: ১১:১১৪
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ
অর্থ: "আর দিনের দুই প্রান্তে সালাত কায়েম করো এবং রাতের প্রথমাংশে।" (সূরা হুদ: ১১৪)
দিনের দুই প্রান্ত: সকাল (ফজর) এবং বিকেল (যুহর-আসর)। রাতের প্রথমাংশ: সূর্যাস্ত পরবর্তী সালাত (মাগরিব-এশা)।
উপসংহার
কুরআন নামাজের সময়রেখা বা 'টাইমলাইন' দিয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) হাদীসের মাধ্যমে সেই সময়গুলোকে ৫টি পৃথক নামে ও রাকাত সংখ্যায় সুনির্দিষ্ট করেছেন। কুরআন ও সুন্নাহর এই মেলবন্ধনই হলো পূর্ণাঙ্গ সালাত।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন