দৈনিক সঠিক বার্তা
🔴 সর্বশেষ খবর:
📢 দৈনিক সঠিক বার্তা পেইজে আপনাকে স্বাগতম 🔵 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে- প্রতিষ্ঠানের নাম, আপনার নাম ও পদবি, প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার (প্রতিষ্ঠানের) লিখে ইমেইল করুন এই ঠিকানায়: dainiksothikbarta25@gmail.com

✍️ শাহেদ | 🕒 সময়: — 🗓️ রোজ: বৃহস্পতিবার, 14 May 2026 | ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৬ জিলক্বদ ১৪৪৭

ইসলামে চাঁদ: কুরআন ও হাদিসের বিধান ও বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য

চাঁদ সম্পর্কে কুরআনের সব আয়াত ও হাদিসের পূর্ণাঙ্গ ভাণ্ডার | দৈনিক সঠিক বার্তা

চাঁদ সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহর পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকোষ

[গ্রাফিক ইমেজ: চাঁদের ২৭টি আয়াতে এর বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় গুরুত্বের ইনফোগ্রাফিক]

১. কুরআনে 'আল-কামার' (চাঁদ) সংক্রান্ত ২৭টি আয়াত

আল্লাহ তাআলা কুরআনে চাঁদ শব্দটি ২৭ বার উল্লেখ করেছেন। নিচে প্রতিটি আয়াতের রেফারেন্স, আরবি ও অর্থ দেওয়া হলো:

সূরা ও আয়াত আরবি আয়াত বাংলা অনুবাদ
আল-আনআম (৬:৭৭)فَلَمَّا رَأَى الْقَمَرَ بَازِغًا قَالَ هَذَا رَبِّيযখন তিনি চাঁদকে উজ্জ্বলভাবে উদিত হতে দেখলেন, বললেন: এটিই আমার পালনকর্তা।
আল-আনআম (৬:৯৬)وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًاতিনি সূর্য ও চাঁদকে হিসাবের মাধ্যম করেছেন।
আল-আরাফ (৭:৫৪)وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِসূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি তাঁর আদেশের অনুগামী।
ইউনুস (১০:৫)هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًاতিনিই সূর্যকে তেজদীপ্ত এবং চাঁদকে নূর (জ্যোতি) করেছেন।
ইউসুফ (১২:৪)إِنِّي رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَআমি স্বপ্নে ১১টি নক্ষত্র এবং সূর্য ও চাঁদকে দেখলাম।
আর-রাদ (১৩:২)وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّىতিনি সূর্য ও চাঁদকে নিয়মাধীন করেছেন; প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করবে।
ইব্রাহিম (১৪:৩৩)وَسَخَّرَ لَكُمُ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ دَائِبَيْنِতিনি সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন, যারা সর্বদা নিজ পথে চলছে।
আন-নাহল (১৬:১২)وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومُ مُسَخَّرَاتٌ بِأَمْرِهِসূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আদেশের অনুগত।
আল-আম্বিয়া (২১:৩৩)وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَসূর্য ও চাঁদ; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করছে।
আল-হাজ্জ (২২:১৮)أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ... وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُআল্লাহকে সেজদা করে যা কিছু আছে আসমানে ও যমীনে এবং সূর্য, চাঁদ...
আল-ফুরকান (২৫:৬১)وَجَعَلَ فِيهَا سِرَاجًا وَقَمَرًا مُّنِيرًاতাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ (সূর্য) ও জ্যোতির্ময় চাঁদ।
আল-আনকাবুত (২৯:৬১)وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُকে সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।
লোকমান (৩১:২৯)وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِيতিনি সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।
ফাতির (৩৫:১৩)وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُّسَمًّىতিনি সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য।
ইয়াসিন (৩৬:৩৯)وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَচাঁদের জন্য আমি মঞ্জিল নির্দিষ্ট করেছি, পরিশেষে তা শুষ্ক খেজুর শাখার মতো হয়ে যায়।
ইয়াসিন (৩৬:৪০)لَا الشَّمْسُ يَنبَغِي لَهَا أَن تُدْرِكَ الْقَمَرَসূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদকে নাগাল পাওয়া।
আজ-জুমার (৩৯:৫)وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِيতিনি সূর্য ও চাঁদকে অনুগত করেছেন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।
ফুসসিলাত (৪১:৩৭)لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِতোমরা সূর্যকে সেজদা করো না, চাঁদকেও নয়।
আল-কামার (৫৪:১)اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانشَقَّ الْقَمَرُকিয়ামত নিকটবর্তী এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে।
আর-রাহমান (৫৫:৫)الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍসূর্য ও চাঁদ এক নির্দিষ্ট হিসেবে আবর্তিত।
নূহ (৭১:১৬)وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نুরًاএবং সেখানে চাঁদকে করেছেন আলো।
আল-কিয়ামাহ (৭৫:৮)وَخَسَفَ الْقَمَرُএবং চাঁদ জ্যোতিহীন হয়ে পড়বে।
আল-কিয়ামাহ (৭৫:৯)وَجُمِعَ الشَّমْسُ وَالْقَمَرُএবং সূর্য ও চাঁদকে একত্রিত করা হবে।
আল-মুদ্দাসসির (৭৪:৩২)كَلَّا وَالْقَمَرِকখনোই নয়, শপথ চাঁদের।
আল-ইনশিকাক (৮৪:১৮)وَالْقَمَرِ إِذَا اتَّسَقَশপথ চাঁদের, যখন তা পূর্ণতা লাভ করে।
আশ-শামস (৯১:২)وَالْقَمَرِ إِذَا تَلَاهَاশপথ চাঁদের, যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে।
আল-বাকারা (২:১৮৯)يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّতারা আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা মানুষের জন্য সময় এবং হজ্জের সময়সূচী।

২. চাঁদ দেখে রোজা ও ঈদ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ হাদিসসমূহ

১. বিশ্বজনীন নির্দেশ: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ (ঈদ) করো।"
সূত্র: সহীহ বুখারী: ১৯০৯, সহীহ মুসলিম: ১০৮১
২. মেঘলা আকাশের সমাধান: "যদি আকাশ মেঘলা থাকে, তবে (শা'বান) মাসের সংখ্যা ৩০ দিন পূর্ণ করো।"
সূত্র: সহীহ মুসলিম: ১০৮১
৩. দূরবর্তী এলাকার চাঁদ দেখা: ইবনে আব্বাস (রা.) সিরিয়ার চাঁদ দেখার খবর গ্রহণ না করে বলেছিলেন, "নবীজি (সা.) আমাদের এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন (নিজ এলাকার দেখা)।"
সূত্র: সহীহ মুসলিম: ১০৮৭
৪. নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য: একজন বেদুঈন চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিলে নবীজি (সা.) তা কবুল করে রোজা রাখার ঘোষণা দেন।
সূত্র: সুনানে আবু দাউদ: ২৩৪০
৫. সফররত কাফেলার সাক্ষ্য: কাফেলা দিনের শেষে এসে সাক্ষ্য দিলে নবীজি (সা.) সাথে সাথে রোজা ভাঙার নির্দেশ দেন।
সূত্র: সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৫৩

৩. নতুন চাঁদ ও কুসংস্কার বর্জন (সূরা বাকারা ১৮৯)

সাহাবীগণ চাঁদের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন করলে আল্লাহ তার পরিবর্তে এর ব্যবহারিক উপকারিতা (সময় গণনা) শিখিয়ে দেন। পাশাপাশি হজ্জের সময় ঘরের পেছনে দিয়ে প্রবেশের কুসংস্কার এই আয়াতেই নিষিদ্ধ করা হয়।

[গ্রাফ: চাঁদ ও কুসংস্কার বর্জনের ওপর একটি সচেতনতামূলক ডিজাইন]

তথ্যসূত্র ও গবেষণা: দৈনিক সঠিক বার্তা রিসার্চ টিম, আল-কুরআন, সহীহাইন এবং সুনান গ্রন্থসমূহ।

💬 আপনার মতামত জানান ▾

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন