সূরা তাওবা ৬০ অনুযায়ী যাকাতের ৮টি খাত | পূর্ণ আয়াত, ব্যাখ্যা ও শর্ত
সূরা আত-তাওবা (৬০) অনুযায়ী যাকাতের ৮টি খাত
পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবা ৬০ আয়াতে যাকাত ব্যয়ের নির্ধারিত ৮টি খাত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই খাতগুলো সমাজের অভাবগ্রস্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত।
পবিত্র কুরআনের আয়াত
যাকাতের ৮টি নির্ধারিত খাত
১. ফকির (الفقراء – আল-ফুকরা)
যাদের কোনো সম্পদ বা আয়ের উৎস নেই এবং জীবনধারণের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল।
২. মিসকীন (المساكين – আল-মাসাকিন)
যাদের সামান্য সম্পদ আছে কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। অত্যন্ত অভাবী হলেও লজ্জায় সাহায্য চায় না।
৩. যাকাত আদায়কারী (العاملين عليها – আমেলীন)
যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী।
৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব (المؤلفة قلوبهم)
যাদের অন্তর ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করা প্রয়োজন; নওমুসলিমদের ঈমান সুদৃঢ় করা।
৫. দাসমুক্তি (في الرقاب – ফী রিকাব)
ক্রীতদাস বা বন্দিদের মুক্ত করার জন্য সাহায্য প্রদান।
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (الغارمين – আল-গারিমীন)
যারা বৈধ কারণে ঋণে জর্জরিত এবং ঋণ শোধে অক্ষম।
৭. আল্লাহর পথে (في سبيل الله – ফী সাবিলিল্লাহ)
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জিহাদ, দ্বীনের প্রচার বা জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি।
৮. মুসাফির (ابن السبيل – ইবনুস সাবিল)
ভ্রমণকালে সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়া ব্যক্তি।
জরুরি নোট ও শর্তসমূহ
- যাকাত কেবল সচ্ছল মুসলিমদের জন্য ফরজ, যাদের সম্পদ নিসাব পরিমাণ।
- বাৎসরিক সম্পদের ২.৫% যাকাত প্রদান করতে হয়।
- যাকাতের প্রাপক অবশ্যই মুসলিম হতে হবে।
- হাশেমী (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বংশধর) ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া জায়েয নয়।
- বাবা-মা, দাদা-দাদি, সন্তান ও স্ত্রীকে যাকাত দেওয়া যাবে না।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন