দৈনিক সঠিক বার্তা
🔴 সর্বশেষ খবর:
📢 দৈনিক সঠিক বার্তা পেইজে আপনাকে স্বাগতম 🔵 আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে- প্রতিষ্ঠানের নাম, আপনার নাম ও পদবি, প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার (প্রতিষ্ঠানের) লিখে ইমেইল করুন এই ঠিকানায়: dainiksothikbarta25@gmail.com

✍️ শাহেদ | 🕒 সময়: — 🗓️ রোজ: বৃহস্পতিবার, 14 May 2026 | ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৬ জিলক্বদ ১৪৪৭

হাসিনার বিপুল ঋণের বোঝা টানছে সরকার

হাসিনার বিপুল ঋণের বোঝা টানছে সরকার

হাসিনার বিপুল ঋণের বোঝা টানছে সরকার

দৈনিক সঠিক বার্তা ডেস্ক | প্রকাশঃ ১৯ জুলাই ২০২৫

বিদেশি ঋণ বোঝা
শেখ হাসিনার সরকারের সময় নেওয়া বিলিয়ন ডলারের বহুল আলোচিত বিদেশি ঋণ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় নেওয়া বিলিয়ন ডলারের বহুল আলোচিত বিদেশি ঋণ এখন বর্তমান সরকারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে এই বিপুল ঋণ পরিশোধের চাপ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার শর্ত মেনে, ‘ভুয়া রিজার্ভ হিসাব’ থেকে বেরিয়ে আসার ঝুঁকিতে পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বিগত অর্থবছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে, যার মধ্যে সরাসরি সরকারের দায় ছিল ৪.৫ বিলিয়ন ডলার এবং আদানি বিদ্যুৎ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র ও পায়রা কয়লা আমদানির জন্য ১.৫ বিলিয়ন ডলার শোধ করা হয়েছে। বিশেষ লক্ষণীয়, এই বিপুল পরিশোধ সত্ত্বেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়েনি।

সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, আগের সরকারের সময় ডলার সংকট চরমে গিয়ে, তখন দেশের রিজার্ভ থেকে অতিরিক্ত ডলার বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ হতো, যা রিজার্ভকে প্রায় শূন্য করে দিত। কিন্তু বর্তমানে ঋণ পরিশোধে রিজার্ভ নির্ভরতা কমিয়ে ব্যাংকভিত্তিক রিরাউটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ধরা হয়েছে। সেই সাথে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি ও অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণের ফলে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এছাড়া বাজারভিত্তিক বিনিময় হার প্রণয়ন করায় ডলারের দাম কমে এসেছে, এবং মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত অর্থবছরে বিভিন্ন উৎস থেকে রিজার্ভে এসেছে ৬.৯২ বিলিয়ন ডলার, ও বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরও রিজার্ভে জমেছে নিট ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রায় ১.৫০ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈধ চ্যানেলে মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার দেশে প্রবেশ করেছে — যা আগে কখনোই ৩০ বিলিয়নের কাছাকাছি পৌঁছাননি। এছাড়া রেমিট্যান্স বেড়েছে ২৭%, রপ্তানি আয় বেড়েছে ৯%, এবং চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে নিট বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে ১১৪%।

জুনে বাংলাদেশ আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি, জাইকাসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পেয়েছে। ফলে দেশটির গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০.০২ বিলিয়ন ডলারে, যা আইএমএফের বিপিএম‑৬ অনুযায়ী ২৪.৯৯ বিলিয়নে রূপ নিয়েছে।

গেল বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল ২৫.৫ বিলিয়ন ডলার — যদিও আইএমএফ-র হিসাব অনুযায়ী সেটি ছিল ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার। তবে এই রিজার্ভের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক এখনও বিদ্যমান।

করোনার পরে জনগণের দাবি, মেগা প্রকল্প ও বাজেট সহায়তার ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় বর্তমান সরকার বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাবার জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে আদ্যপান্ত আইনি ঋণের পাশাপাশি বাজারভিত্তিক উচ্চ সুদে নেয়া ঋণও সমন্বয় করতে হবে। অর্থনীতিবিদরা সবসময় বিদেশি ঋণ বাড়ানো থেকে সতর্ক করে আসছেন; কিন্তু সাবেক সরকার তা উপেক্ষা করেই ঋণ বাড়িয়েছে।

তবে এরপরেও রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বিরূপ প্রভাব না পড়ার পেছনে রয়েছে মূলত রেমিট্যান্স, রপ্তানি ও অর্থপাচার রোধের সাফল্য। বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন,

“অ‌র্থপাচার বন্ধ এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি থাকায় রিজার্ভে হাত না দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা গেছে।”
“বর্তমানে ডলারের সাপ্লাই-ও পাচার নিয়ন্ত্রণে থাকায় সমস্যা নেই; কিন্তু রাজনৈতিক সরকার এলে আবারও এসব ঝুঁকি বাড়তে পারে।”

– দৈনিক সঠিক বার্তা ডেস্ক

🔍 তথ্যসংক্ষেপ:

– সাবেক সরকারের সময় নেওয়া বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে বর্তমান সরকার চাপের মুখে।
– রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বেড়ে গেলে বেকিং রিজার্ভে চাপ না পড়লেও ঋণের চাপে রেমি‍ট্যান্স-নির্ভরতা বাড়ছে।
– বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ও অধিক সাপ্লাইয়ের কারণে ডলারের দাম ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে।

হ্যাশট্যাগ:
#দৈনিকসঠিকবার্তা #dainiksothikbarta #অর্থনীতি #বাংলাদেশ

💬 আপনার মতামত জানান ▾

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন