আশুরার সিয়াম সম্পর্কে কুরআন ও হাদীস ভিত্তিক দলীল
আশুরার সিয়াম সম্পর্কে কুরআন ও হাদীস ভিত্তিক দলীল
আশুরা (১০ই মুহাররম) ইসলামী ক্যালেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এই দিনে রোজা রাখা সম্পর্কে কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলেও বহু সহীহ হাদীসে এর ফজিলত ও গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। নিচে আমরা দলীলভিত্তিকভাবে তা উপস্থাপন করছি।
📖 কুরআনের দৃষ্টিতে
আশুরার সিয়ামের সরাসরি উল্লেখ কুরআনে নেই, তবে পূর্ববর্তী নবীদের সময়কার রোযার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে:
"হে মুমিনগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।"
— সূরা আল-বাকারা: ১৮৩
📚 হাদীসের আলোকে আশুরার রোযা
-
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:
"আমি আশা করি, আশুরার রোযা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেয়।"
— সহীহ মুসলিম: ১১৬২ -
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন:
"নবী (ﷺ) যখন মদীনায় আসলেন, দেখলেন ইয়াহুদীরা আশুরার দিন রোযা রাখছে। তিনি বললেন, 'এটা কী?' তারা বলল, 'এই দিন আল্লাহ মূসা (আঃ) ও তার জাতিকে উদ্ধার করেছিলেন, তাই আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোযা রাখি।' তখন নবী (ﷺ) বললেন, 'আমরা তো মূসার অধিক হকদার।' অতঃপর তিনি নিজেও রোযা রাখলেন এবং সাহাবীদেরও নির্দেশ দিলেন।"
— সহীহ বুখারী: ২০০৪, সহীহ মুসলিম: ১১৩০ -
তাফরীক ও ভিন্নতা বিষয়ে রাসূল (ﷺ) বলেন:
"তোমরা আশুরার (১০ই মুহাররম) রোযার সঙ্গে ৯ তারিখ (তাসু’আ) অথবা ১১ তারিখের রোযাও রাখো, যাতে ইয়াহুদীদের সাথে সাদৃশ্য না হয়।"
— মুসনাদ আহমদ: ২১৫৫
📌 উপসংহার:
- আশুরার রোযা ফরজ নয়, বরং সুন্নত এবং বিশাল সাওয়াবের আশ্বাস রয়েছে।
- সুন্নত হলো ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ মুহাররম একসাথে রোযা রাখা।
- এটি আগের বছরের গুনাহ মাফের এক সুবর্ণ সুযোগ।
আল্লাহ আমাদের সকলকে এই মহান দিনে রোযা রাখার তাওফিক দিন। আমীন।
🔗 এই পোস্টটি "দৈনিক সঠিক বার্তা" কর্তৃক ইসলামিক শিক্ষা প্রচারের উদ্দেশ্যে তৈরি। কপি করে শেয়ার করুন, যেন অন্যরাও উপকৃত হয়।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন